আসল কথা হলো রাগটা বের করে দিতে হবে।
অনেককাল হলো বরাত ছাড়া আর কিছু লেখা হয় না। লিখি না। তাতে অবশ্যি কোনো বেড়াল থাবা চাটা বন্ধ করেনি, কোনো হলুদ ট্যাক্সি ড্রাইভার একবারেই ‘হ্যাঁ যাব' বলা শুরু করেনি, কোনো কাগুজে পরিস্থিতিই এতোটা সড়গড় ও কম্পিউটরি ডেটাংদেহি হয়ে ওঠেনি যাতে করে করে জিতু মান্ডি নামক এক মানুষকে তার বোনের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে কাঁধে করে না নিয়ে যেতে হয় কেবলমাত্র উনিশটি হাজার টাকার জন্যে। মোটমাট যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখি আমি কিছু না লেখায় এ মহাবিশ্বের একটিও লোমের এতোটুকু আগারও কোনো ক্ষতি হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবু হাজারও উপেক্ষার পরও কাউন্সিলরের চুটকিতে হোহো দেওয়ার মতো আজ কেন লিখছি, সেই কারণটা আগে বলে নিই। কণিষ্ক ভট্টাচার্য নামের একদম ফালতু একটা লোক গতকাল আমায় তাঁর একটি লেখা পাঠান। আগেও পাঠিয়েছেন। কিন্তু এ কাজ তিনি কেন করেন এ এক বিষ্ময়! কারণ কণিষ্কদা যে যে বিষয়ে লেখেন এবং যে পারদর্শিতার সঙ্গে লেখেন, সে লেখা আমার মতো ‘মটকা গরম হলে এরিয়া ঠান্ডা হয়ে যাবে' পাঞ্চলাইন বিয়োনো ও সেই পাঞ্চলাইনকে অপূর্ব ল্যা ল্যা দক্ষতায় এই লেখার মধ্যেও জোরে, নির্লজ্জভাবে মাইকিং করা হাড়বজ্জাত অশিক্ষিতের কদর করা তো দূর, বোঝবারই কথা হয়। তাও পাঠায়। আমি পড়ি। তারপর বুঝতে পারি বেড়ালটা কেন এখনও থাবা চাটছে। কণিষ্কদা রিলখে হলে আমি বড়জোড় স্ট্যাম্প জমাই। ব্যাস। চিঠির সঙ্গে যোগাযোগ আমার ওতটুকুই।
হ্যাঁ পাঠক, এভাবেই নিজেকে আন্ডারসেল করার সময় নেমড্রপিং-এর মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে আসলে আপনি কী চিজ! এ হাতে অভিধানাইপানাই ও হাতে ক্যাচার ইন দা রাই, অজুহাতে আমি প্রচার চাই না জাঁহপনা শুধু রেগকনিশন চাই…ডিজলভ টু থেরাপি।
না, আমার মতো জিনিয়াস হয়ত আপনি হতে পারবেন না। আমি ক্ষণজন্মা। আমি, ব্রক লেসনার আর হাতিম তাই। তাও শিখিয়ে দিলাম। যদি কাজে লাগে।
এবার প্রশ্ন হলো এই জিনিয়াস হঠাৎ অর্থহীন লেখা কেন ছেড়ে দিল? উত্তরটা প্রশ্নের মধ্যেই দেওয়া আছে। অর্থ ছাড়া অর্থ নেই কিছুতে। কিন্তু আরেকটা কারণ হলো হ্যামলেট। না ঠিক হ্যামলেট না, হোরেশিও। হোরেশিও নামটা শুনলেই আমার মটকা গরম হয়ে পাঞ্চলাইন বেরিয়ে যায়। এই যে বর্তমান বাংলা বাজারে আমার চাইতে ভালো সংলাপ লিখিয়ে আর নেই এ কথা কী আমি শুধু ডিল্যুশনের খাতিরে বিশ্বাস করি? মোটেই না! এ জাতীয় বিশ্বাস আসে একটা রাগ থেকে। যে এতো কিছুর মধ্যে ওই বান্টুটা বেঁচে গেলো কী করে? শালা গোটা কিংডমের জিওটি হয়ে গেলো তাও হোরেশিওর জোয়ি সিজন ওয়ান চলছে। আমি যদি হোরেশিও হতাম তাহলে শিওর শেক্সপিয়ারের কলার ধরে বলতাম - ব্যাটা বাংলা থিয়েটারের ভেঙ্কটেশ ফিল্মস, আমাকে যদিও বা বাঁচিয়েই রাখলি তাহলে অন্তত বচ্চন করে রাখতিস। হাইট আর ক্যারিজমাটা দিতিস। নমকহারামের শোধ শোলে দিয়ে তুলে নিতাম। কিন্তু না। কালচারের নামে ঘ্যানঘ্যানে আবহের সঙ্গে তস্য ঘ্যানঘ্যানে গু বেচা বাচিক করে ছেড়ে দিলো হারামজাদা। ঠাকুমার ঝুলি খুলবে, ডেনমার্কের গল্প বলবে। অবশ্য আমার রাগ শুধু এখানেই থেমে নেই। কারণ হ্যামলেট হলো সুন্দরী বান্ধবীদের ওপর অমূলক স্বর্বংগ্রাসী অধিকারের প্রত্যাশা এড়িয়ে নিজেকে ‘আমি না মধ্যবিত্ত’ বলতে পারার মতো আড়ালধর্মী গলার খিচখিচ, যা ভিক্সেও দূর হবে না।
ঋদ্ধি সেন হ্যামলেট করেছেন। আমার দেখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এতো রাগ হয়েছে যে মনে হচ্ছিল নিজের চোখে গগল টাঙিয়ে, এক হাতে মেডুসার মাথাটা ধরে গোটা মহাবিশ্ব পাক খাইয়ে সবকটাকে পাত্থারকে সানাম করে দিই। অবশ্য রাগের কারণটা এটা না যে উনি কেন হ্যামলেট করেছেন। রাগের কারণটা হলো আমি কেন সকলের সঙ্গে, এক স্কেলে, এক নাদে ওঁকে ‘ভাগ পোঁদপাকামাল’ বলতে পারছি না। একজন জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত দড় অভিনেতা একটি থিয়েটারে একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আমার ইচ্ছে হলে আমি সেটি দেখব। ইচ্ছে না হলে দেখব না। দেখে ভালো লাগলে ভালো বলব। খারাপ লাগলে খারাপ। এই সহজ সত্যিটা উপলব্ধি করবার পর যে আমোদগেঁড়ে দু’হাত তুলে নেত্য করা থেকে নিজেকে আমি বঞ্চিত করে ফেলেছি তার দাম কি তোদের লক্ষ্মীভান্ডার দেবে? আর শুধু ঋদ্ধি সেন নয়। এমন যে কেউ যার একটা নিজস্ব ভয়েস আছে, তার প্রতিই সকলে টিয়াপাখি হয়ে যায়। ট্যাঁরা চোখে তাকায়। আমি পারি না কারণ আমার চশমা আছে। তাছাড়া তার সঙ্গে আমার মতেল মিল থাকুক বা না থাকুক…ধুর বাবা! এই হলো মুশকিল। ‘সে তার সঙ্গে আমার মতেল মিল থাকুক বা না থাকুক'... উফফ! আমার সঙ্গে মতের অমিল হলেই আমি তাকে ছেঁচে দেব! আর মতের মিল থাকলেও যদি দেখি মেজরিটি ওর বিপক্ষে তাহলে আমি আমার মত বদলে নেব। এই চারিত্রিক দৃঢ়তাটাই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে ফেলেছি। ফলে গ্যালাখ্যালা পড়ে রয়েছে আর মেমফুত্তি দেদার মিসিং হয়ে ঘ্যাশটা মেরে গেছি।
মানে বলতে চাইছি আমি ভালো মানুষ বাকিরা পচা।
এই যে বাংলা সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে এতোকাল যারা দাদার পোঁদের তলায় ডিম সেজে বসে তা খাচ্ছিল অন্যদের চিকেন করায় আশায়, তারাই দেখিছি বুক পাছা চাপড়ে সবচে জোরে কাঁদছে। এদের আমি কি কখনও আমি সামনাসামনি ‘ভাগ বান্টু’ বলতে পারব? পারব না তো। পারব না কারণ আমি রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি নই। আমার ধক নেই। আমার সাহসে আটকাবে যেটাকে আমি ভদ্রতা বলে চালাব। কিন্তু মুখগুলো দেখলেই তো থাবড়াতে ইচ্ছে করবে। এবার এই চাপা রাগটা নিয়ে আমি কোথা যাই? র্যাণ্ডম কোনো একটা সফট টার্গেট ধরে তাকে ট্রোল করে মোস্তি নেওয়ার দাঢ্য যে আমার নেই সে কথা তো আগেই বললাম। তাই গল্প বলি শুনুন।
সমুদ্র ঝড় উঠছে। সেই ঝড়ে আটকা পড়েছে একটা জাহাজ। জাহাজ কাপ্তেন বলছে - ‘ওরে বোকাচোদা, রেলিং ধরে দাঁড়াসনি! বাল জ্যাকেরও বডি পাওয়া যায়নি আর তুই তো আবার সিঙ্গেল, সরে আয় সরে আয়!’ এদিকে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিল এক জেনজি বালক। সে এই কথা শুনে, মোবাইল খুলে, কাপ্তেনকে ‘অ্যা' বলে জলে পড়ে গেলো। ‘ব্যুজ করছে' বলতে পারার আগেই। ব্যাস গল্প শেষ। আর মোরাল অফ দা স্টোরি হলো আমার জেনজিদের পোষায় না। আমি যখন আমার এই সাঁইত্রিশ বছর এগারো মাস বয়সে মুখ ফুটে নিজের কথা বলতে পারি না, তোরা কেন বলবি? আমি যখন মালিককে ইমপ্রেস করার জন্যে বাইশ ঘন্টা খাটাকে দালালির মতো নর্মাল সুস্থ একটা জিনিস বলে মনে করেছি তখন তোকে টক্সিক ওয়ার্ক এনভায়নমেন্ট বলার রাইট কে দিয়েছে? ‘সবার মালিক থাকে, যেমন পিরামিডের মালিক নীল আকাশ' জানিস এ লাইন কার লেখা? কোরিয়ার বাইরে কিছু জানিস গোজুচাংমুখো পালিশচোয়ালি ম্যাদামারাগুলো? আর সবচে বড় কথা যখন আমার ভেতরটা দড়কচা মেরে গেছে তখন তোরা ভাইভাবি কেন?
এবার একটু ভাল্লাগছে।
হ্যাঁ তো যেটা বলছিলাম রাগটা বের করে দিতে হবে।
কিন্তু সবাই তো সেটা আমার মতো অন্যরকম ভাবে পারে না তাই ট্রোল, গণপিটুনি, বিদ্বেষ, গোল করে ঘিরে ধরে ন্যাকা আবৃত্তি শোনানো এসবের বুফে থেকে কিছু একটা বেছে নেয়।
আসলে আমি তো জিনিয়াস। আমি, রাকেশ বেদী আর মালিকা হামিরা। একদিন শালা পৃথিবীর মুখে ফলস কাঁকড়াবিছে ধরে আক্রব আক্রব আক্রম বলে দেব।

No comments:
Post a Comment